Sunday, September 14, 2008

অগাস্ট পেরুলো, বাঁচলাম।

কেমন করে যেন সময় চলে যায়। নিজের ব্লগের দিকে তাকিয়ে দেখি, জুলাই-এর পরে আর কোন লেখা নেই। আমি লেখাতে অনিয়মিতই থাকি ব্লগে, কিন্তু পুরো অগাস্টে কোনই লেখা নেই দেখে অদ্ভুত লাগছে। অন্তত নিজের ব্লগস্পটে তো হাবিজাবি অলেখাগুলো লিখি, কেউ দেখবে না ভেবে, এখানেও কিছু নেই। এই মাসটায় কিছুই কি ঘটে নি লেখার মত? এমনকি নিজের ডায়েরীতেও? ...অগাস্ট মাসটাকে আমার ইচ্ছা করে আমার জীবন থেকেই মুছে দিই। কি আছে অগাস্টে? দুইটা তারিখ অভিশাপের মত কালো অন্ধকার হয়ে থাকে। পনেরো আর তেইশ। পনেরো অগাস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুদিন, পুরো পরিবারসহ। এরচেয়ে কালো কোন অধ্যায় তো আর নেই বাংলাদেশের ইতিহাসে...নির্মলেন্দু গুনের কবিতাটা মনে পড়ে, "আগস্ট শোকের মাস, কাঁদো"।

এরপরে আরেকটা তারিখ যোগ হলো ২০০৫-এ, ২১ অগাস্ট। বোমা মারা হলো আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে। তিনি বেঁচে গেলেন ভাগ্যজোড়ে, হয়তো দুর্ভাগা পুরো পরিবারের অবশিষ্ট সবটুকু আশির্বাদ তাকে আগলে রেখেছিলো। কিন্তু মরতে হলো সেই সভায় আসা সাধারণ কিছু মানুষকে, ইশ, কি ভীষন অনর্থক মৃত্যু! জীবন্মৃত হয়ে আজো বেঁচে আছেন মৃতদের চাইতেও হতভাগ্য আরো ক'জন। লিখতে গিয়ে চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেদিনের পেপার জুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাশের ছবি! ওহ ঈশ্বর, আমি ভুলতে চাই...!

২০০৫-এর ২১শে আগস্টে আম্মুর সাথে কথা হলো, তখন আমি ইউনিভার্সিটির হলে, অনার্স থার্ড ইয়ার ফাইনাল চলছে। মামণি খুব চিন্তায় ছিলো, আমি আবার ওই সভায় গিয়েছি কিনা, কি অমূলক টেনশান- মায়েরাই কেবল করেন। তাকে বুঝিয়ে শান্ত করা হলো। আর মাত্র দু'দিন পরে ২৩ তারিখ, আমার শেষ পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ করেই বাসায় ফিরে আসব। তখন এইসব টেনশানের আলাপ বাদ দিয়ে আমরা সব মজার মজার গল্প করব। মা আমার আশ্বস্ত হন। একটা মাস ধরে দিন গুনে চলেছেন কবে আমি পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফিরব, আর মাত্র দু'টো দিন। তেইশ তারিখের শেষ পরীক্ষাটা আমার খুব ভালো হলো। অভ্যাসবশত পরীক্ষা শেষ করেই আম্মুকে ফোন দিলাম, কেউ রিসিভ করলো না। ভাবলাম নিশ্চয়ই মা ঘুমুচ্ছেন। বন্ধুদের সাথে তুমুল আড্ডায় মেতে উঠলাম, শেষ পরীক্ষা বলে কথা। বাসা থেকে একটা ফোন এলো কিছুক্ষন পরে, আমি যেন বাসায় চলে যাই, মা'র শরীর খারাপ করেছে আরো।

বাসে যেতে যেতে কত কি ভাবলাম। মামণির একবার গলব্লাডার স্টোন অপারেশন হয়েছিলো, পুরো শরীর অচেতন করে এই অপারেশনটা করতে হয়। এই অপারেশনটাকে বলা হয় সবচেয়ে ছোট্ট, সহজ এবং রিস্ক ফ্রি অপারেশন। অপারেশন শেষ হয়ে যাবার পরে মা'কে কেবিনে ফেরত আনা হলো। একটু পরেই জ্ঞান ফিরবে-মা স্বাভাবিক হয়ে যাবেন জেনেও বিছানার ওপর তার অচেতন শরীর দেখে আমি শিউড়ে উঠেছিলাম। আমার মা কেন একটা মুহুর্তের জন্যও অমন হয়ে থাকবে? এইসব ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরে দেখি এত এত মানুষ বাসায়...মা'র ঘরে ঢুকে দেখি মা ঠিক তেমনি অচেতন হয়ে শুয়ে আছেন বিছানায়...।

আর ভাবতে চাই না। আর লিখতে চাই না। আর সইতেও পারি না...। পৃথিবীটা তো অবিশ্বস্তই। ২৩ তারিখটাকে, অগাস্ট মাসটাকে জীবন থেকে মুছে দিলে কি কিছু বদলে যেতো?

এখন অগাস্ট মাস এলে আতঙ্কে থাকি, কোন মানে নেই, তবুও। নিজের অজান্তে প্রতি মুহুর্তে এড়িয়ে যাই সময়টাকে। আমি যেন ঠিক আমি থাকি না। এর মাঝে দেশ থেকে খবর আসে, বাবার শরীর তেমন ভালো নেই। আমি রাতে দুঃস্বপ্ন দেখি। কুঁকড়ে ছোট হয়ে আসে শরীর। বাবা তুমি ভালো থাকো প্লিজ। প্লিজ বাবা।

ফুটনোটঃ সেপ্টেম্বার চলে এসেছে। ১ তারিখ থেকেই আমার মনটা খুশি খুশি হয়ে ওঠে, সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকে "Happy birth month" বলে মাস শুরু করি। গতকাল বাবাকে ফোন করে জেনেছি, সব রিপোর্ট ভালো এসেছে। স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলে ভাবছি, এবার প্রিয় সচলে লিখতে না পারলেও অন্তত পড়তে তো পারব প্রিয় মানুষগুলোর লেখা।

4 comments:

আনোয়ার সাদাত শিমুল said...

মন চোখ দুটোই ভিজলো। আর কী বলবো জানি না...

বিডিবি টিম said...

একটি অফট্র্যাক মন্তব্য।

সকল বাংলাদেশী ব্লগ সাইটের একটি লিস্ট তৈরি করা হয়েছে। এর নাম বিডি ব্লগারস. সকল বাংলাদেশী ব্লগারদের কাছে আমাদের একান্ত অনুরোধ রইল যাতে সবাই বিডি ব্লগারস এর ওয়েব ব্যাজগুলো নিজেদের সাইটে ডিসপ্লে করেন (ব্যাজগুলো উপরের ব্যাজ অংশে পাওয়া যাবে) এবং ব্লগে বা ফোরামে বিডি ব্লগারস নিয়ে একটি পোস্ট লেখেন যাতে করে অন্যান্য সকল বাংলাদেশী ব্লগাররা এই তালিকা সম্পর্কে জানতে পারেন।

আপনাকে ধন্যাবাদ।

অলৌকিক হাসান said...

তোমার জামাইয়ের জন্মদিন সেপ্ট ১ তাইলে? খিক খিক।

kaisarahmed said...

খাদ্য মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান উৎস। তাজা বা টাটকা খাবার আমাদের মন এবং দেহকে সুস্থ ও সতেজ রাখে। বর্তমানে তাজা বা টাটকা সবজি বা মাছ খোঁজে পাওয়া খুব কষ্টের। আপনি কি সামুদ্রিক মাছ, গলদা চিংড়ি, চিংড়ি, তাজা জল-মাছ, কাঁকড়া, ইত্যাদি দরণের মাছ খোঁজ করছে? তাহলে ভিজিট করুন freshfishbd.