Tuesday, February 26, 2008

আমার দেখা বাংলা সিনেমা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

হলে গিয়ে সিনেমা দেখা বন্ধ হবার পরে টিভিই রইলো একমাত্র সম্বল। একটু বুদ্ধি হবার পর থেকেই যে সিনেমাটি টিভিতে সবচেয়ে বেশি দেখেছি তা"জীবন থেকে নেয়া"। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারী-- যেকোন দেশাত্ববোধক উপলক্ষে এই একটি সিনেমাই দেখানো হতো। সম্ভবত রাজনৈতিক জটিলতায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যান্য যেকোন সিনেমা দেখানোটা ওই সময়ের সরকারের পক্ষে সম্ভব ছিলো না (হায়!)। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সিনেমাটি যতবারই দেখেছি, নতুন করে ভালো লেগেছে। ছোটবেলায় এই সিনেমার রূপক অর্থটি বুঝিনি, তবুও ভীষন উপভোগ্য মনে হতো। খান আতার সেই চিরদিনের অসম্পূর্ণ গান, " এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে?" কখনোই ভোলার নয়। এবং সেই বিখ্যাত ডায়ালগ, "ঘরে ঘরে দূর্গ গড়তে হবে"...অসাধারণ। একটু বড় হয়ে, একটু বুঝার পর থেকেই কেবল ভাবি, কি পরিমাণ মেধা থাকলে একজন পরিচালক এরকম একটি সিনেমা তৈরি করতে পারেন। কি অসাধারণ প্লট, কি পারফেক্ট রূপক- একটি পরিবারের মধ্য দিয়ে পুরো একটি দেশের সম্পূর্ণ পরিস্থিতিটি তুলে ধরা, সর্বোপরি প্রতিটি পাত্র-পাত্রীর চমৎকার অভিনয়। দেখতে দেখতে মুখস্ত হয়ে যাওয়া এই সিনেমাটি তাই তুমুল উৎসাহ নিয়ে এখনও আবার দেখতে বসি। এই রকম পারফেক্ট সিনেমা বাংলাদেশের চ্চলচিত্র জগতে বোধহয় বিরল। তাই প্রিয় সিনেমা কোনটা কখনো ভাবতে চোখ বন্ধ করে আগে বলে নেই, "জীবন থেকে নেয়া"। হারিয়ে যাওয়া প্রিয় জহির রায়হানের উদ্দেশ্যে আরেকবার হ্যাটস অফ।

ছোটবেলায় মুক্তিযুদ্ধের আর যে সিনেমাটি অনেকবার দেখেছি তা হলো, "আলোর মিছিল", পরিচালনায় মিতা। অভিনেতা অভিনেত্রী মূলত ছিলেন ববিতা-রাজ্জাক, মামা-ভাগ্নি চরিত্রে। আর ছিলেন ফারুক, আনোয়ার হোসেন, রোজী আফসারী। মূলত মুক্তিযুদ্ধের পরের পটভূমি নিয়ে তৈরি এই ছবিতে অসাধারণ একটি গান ছিলো সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া, "এই পৃথিবীর পরে, কত ফুল ফোটে আর ঝরে/ সে কথা কি কোন দিন, কখনও কারো মনে পড়ে"। এই গানে ফুটফুটে ববিতার চমৎকার হাসির কথা মনে পড়ে। আরেকটি গান, "দুঃখ করো না বন্ধু তোমরা যদি না পারি/ আগেকার সেই সুরে সুরে গাইতে আমার গান/ প্রশ্ন করো না হৃদয়জুড়ে এ কোন অভিমান?"

মুক্তিযুদ্ধের আর কোন সিনেমা বিটিভিতে সেই সময় দেখেছিলাম বলে মনে পড়ে না। এরপর টানা অনেকগুলো বছর পরে বিটিভিতে মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো '৯৬তে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার পরে। তখনই দেখেছিলাম সুভাষ দত্তর "অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (ববিতা)", খান আতার "আবার তোরা মানুষ হ", আলমগীর কবীরের "ধীরে বহে মেঘনা", চাষী নজরুল ইসলামের "ওরা এগারো জন" এই সিনেমাগুলো। '৯৬ আমি ক্লাস নাইনে পড়ি, একটা একটা মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা দেখতাম, আর শিউড়ে উঠতাম- কখনও কষ্ট, কখনও আনন্দে। অসাধারণ সব দেশাত্ববোধ সব গান ছিলো এই সবগুলো ছবিতে, " এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা", "এক নদী রক্ত পেরিয়ে", "মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি", "কত যে ধীরে বহে মেঘনা"। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই বাংলাদেশের প্রথম সিনেমাটি যতদূর জানি ওপার বাংলার সহায়তায় মির্মিত একটি ছবি, কেন যে নাম মনে করতে পারছি না! ওপারের বিশ্বজিৎ ছিলেন অভিনয়ে। লতা মুঙ্গেরশকরের কণ্ঠে চমৎকার একটি গান ছিলো সেই ছবিতে, " ও দাদাভাই, দাদাভাই মূর্তি বানাও/ নাক-মুখ-চোখ সবই বানাও/ হাত বানাও, পা-ও বানাও/ বুদ্ধ-যীশু সবই বানাও/ মন বানাতে পারো কি? একটা ছোট?/ বোন বানাতে পারো কি?/ দাদাভাই বোন বানাতে পারো কি?"

এরপর অনেক বছর পরে সম্ভবত ১৯৯৫তে হুমায়ূন আহমেদ আবার বানালেন মুক্তিযুদ্ধের ছবি, "আগুনের পরশমণি"। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঢাকা শহর, ঢাকায় থাকা একটি পরিবারের বন্দি-জীবন, সেই পরিবারে হঠাৎ একজন মুক্তিযোদ্ধার আবির্ভাব- এই নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কাহিনী। আমার কাছে ভীষন হৃদয়ছোঁয়া মনে হয়েছিলো। বিপাশা হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর, ডলি জহুর, আবুল হায়াত, শিলা আহমেদ- নাটকের এই মানুষগুলো তাদের অভিনয়ক্ষমতায় আরো মহিমান্বিত করেছিলেন এই সিনেমাটিকে। এই সিনেমাটিও আমি টিভিতেই দেখেছিলাম, হলে নয়। আবার দীর্ঘবিরতির পরে ২০০৭ সালে দেখলাম তৌকির আহমদের "জয়যাত্রা", আন্তর্জাতিক চ্চলচিত্র উৎসবে, জাতীয় জাদুঘরে। এবং একই সময়ে দেখলাম টিভিতে মুক্তি পাওয়া হুমায়ূন আহমেদের "শ্যামল ছায়া"। এই দু'টো সিনেমার পটভূমি আশ্চর্যজনকভাবে প্রায় একই। তবু ভালো লাগলো দু'টোই।

মূলধারার সিনেমার বাইরে একটি সিনেমার কথা বলতে হবে, তারেক মাসুদের পরিচালনা, ক্যাথরিন মাসুদের প্রযোজনায় "মুক্তির গান"। টিভিতেই দেখেছিলাম। এবং মুক্তিযুদ্ধের সমরকার এরকম একটি প্রামাণ্যদলিল দেখে গাঁয়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিলো। একটি দৃশ্যের কথা মনে আছে, এখনও লিখতে গিয়ে চোখে পানি আসছে-- ভারতে যাবার আগে তারেক মাসুদ বাংলাদেশ সীমান্তের এক মুঠো নরম কাদা হাতে তুলে নেন। ওই মুহুর্তে হৃদয়ের গভীর থেকে উপলদ্ধি করি "আমার দেশের মাটি/ খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি"। এই সিনেমাতেই প্রথম শুনি মৌসুমি ভৌমিকের কণ্ঠে মর্মস্পর্শী "যশোর রোড" গানটি। তারেক মাসুদের আরেকটি সিনেমা "মাটির ময়না"। এটিও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গল্প নিয়েই, যদিও এতে প্রাধাণ্য পেয়েছিলো মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রের ভুবন। এই চমৎকার সিনেমাটি দেখেছিলাম বলাকা সিনেমা হলে গিয়ে।

এখন অপেক্ষা করে আছি, মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে আরো অনেক ভালো ছবি দেখব বলে।
(চলবে)

Sunday, February 24, 2008

আমার দেখা বাংলা সিনেমা

ছোটবেলায় ব্যাপারটা ছিলো ঠিক উল্টো। মানে এখন যেমন নাক প্রায় সিঁটকিয়েই বাংলা সিনেমার বড়জোর খবর নেই, ছোটবেলায় বরং প্রবল আকর্ষন ছিলো সিনেমা ব্যাপারটার প্রতি। আর সিনেমা মানেই বাংলা সিনেমা। বিটিভিতে ইংরেজী সিনেমা দেখাতো বটে কিন্তু সেটাকে সিনেমা না ভেবে "মুভি অব দ্য উইক" ভাবাটাই বেশি যৌক্তিক মনে হত সেই সময়!

অনেক দিন পর্যন্ত আমাদের বাসায় সাদাকালো টিভি ছিলো। তখন টিভিতে দেখানোও হতো বেশিরভাগ সাদাকালো ছবিই। নায়ক-নায়িকা হয় রাজ্জাক-কবরী-ববিতা নয়ত শাবানা-আলমগীর, কখনও শবনম-রহমান। এর বেশি নিজের মনে নেই, তবে আমার মায়ের খুব পছন্দের ছিলো নায়িকা ছিলো সুজাতা। এক্কেবারে পিচ্চীবেলার সিনেমাগুলো বিটিভিতে দেখাতো বৃহস্পতিবার রাত আটটার সংবাদের পরে। আমরা সবাই সার বেঁধে ড্রইং রুমে বসে যেতাম। দেড় ঘন্টা দেখার পরেই ইংরেজী সংবাদ, মানে আধ ঘন্টার বিরতি। সেই সময়েই ঘটতো করুণ ঘটনা। আমার বাবা আমাকে নানান ভাবে ঘুম পাড়িয়ে দেবার চেষ্টা করত। একেক দিন একেক অজুহাত, "মা, আজকে তো আর দেখাবে না, পরের অংশের ফিতা নষ্ট হয়ে গেছে", অথবা "আরে এইটা শুক্রবারে সকালে আবার দেখাবে তখন দেখো" ইত্যাদি নানা অজুহাত। সেই সব স্বপ্নময় সাদাকালো সিনেমাগুলো আমার কখনই তাই দেড় ঘন্টার বেশি দেখা হয় নি।

তার বেশ কিছুদিন পরে বোধহয় শুক্রবারে সিনেমা দেখানো শুরু হলো। মাসে এক শুক্রবারে বাংলা সিনেমা, বাকি শুক্রবারগুলোতে "মুভি অব দ্য উইক"। ওই এক শুক্রবারের জন্য হা করে বসে থাকতাম। তখন কিছু কিছু রঙীন সিনেমা দেখানো শুরু হলো, কিন্তু আমাদের তো সেই সাদাকালো টিভিই। একটু মন খারাপ হতো, কিন্তু কিছু বলতাম না। কিন্তু যেদিনই আবার সাদাকালো সিনেমা হতো, সেদিনই খুশিমনে বলে উঠতাম, " খুব ভালো হইসে, যাদের বাসায় রঙীন টিভি, আজকে তারাও সাদাকালো দেখবে"!

হলে গিয়েও সিনেমা দেখেছি, প্রথম কোনটা মনে পড়ছে না। তবে অনেক ছোটবেলায় একটা সিনেমা দেখেছিলাম, নাম "ভেজা চোখ"। ইলিয়াস কাঞ্চন-চম্পা , মিঠুন, শিশুশিল্পী জয়া আর মনে হয় দিতি নাকি নিপা মোনালিসা নিশ্চিত নই। চমৎকার সব গান ছিলো। "জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প", "তুই তো কাল চলে যাবি আমাকে ছেড়ে/পরশু কি হবে দেখা এমন করে","প্রিয়া আমার প্রিয়া","পেয়েছি চাচী পেয়েছি ও চাচা" এইগুলো মনে পড়ছে। সিনেমা দেখে কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি নাকের পানি একাকার করে ফেলেছিলাম। পত্রিকার একটা রিপোর্টের শিরোনামও মনে আছে হুবুহু, "ভেজা চোখ দর্শকদের চোখ ভিজিয়েছে"। এখন দেখলে কেমন লাগবে জানি না কিন্তু তখন অসাধারণ লেগেছিলো। চম্পা বোধহয় নতুন এলেন তখন সিনেমায়, আমার কাছে চম্পা-ইলিয়াস কাঞ্চনকে খুবই স্মার্ট লাগতো তখন। :)

প্রায় সমসাময়িক কালে আরো দুইটা সিনেমার কথা মনে পড়ে যেগুলো হলে গিয়ে দেখেছিলাম। মফস্বল শহরের ছোট্ট গন্ডির মজা হচ্ছে প্রায় সবাই সবাইকে চেনে। আর এর মাঝেও যারা কোন কারনে কাছাকাছি থাকে, তাদের আত্মীয়তা বেড়ে যায় আরো অনেক বেশি। আমার বাবা ব্যাংকার। বাবার কলিগদের এবং তাদের পরিবারের মধ্যে খুব সুন্দর সম্পর্ক ছিলো। এই সব কলিগ-পরিবারের একটা গেট টুগেদারের একটা অংশ ছিলো সিনেমা দেখা। হলের দোতলায় আলাদা একটা রুম ছিলো, কি জানি বলতো ওইটাকে, ডিসিই কিনা? ওই রুমটা রিজার্ভ করে আমরা অনেকগুলো পিচ্চী-পাচ্চী এবং আমাদের বাবা-মায়েরা মিলে দেখতে গেলাম ওই সময়ের মহা-হিট সিনেমা "দুই জীবন"। আফজাল-দিতি, বুলবুল আহমেদ-কবরীর অভিনয়, আবদুল্লাহ-আল-মামুনের পরিচালনা। মজার সিনেমা। আমাদের সব পোলাপানেরই খুব পছন্দ হয়েছিলো। এই সিনেমারও চমৎকার সব গান ছিলো, "তুমি আজ কথা দিয়েছো, বলেছো", "একদিন তোমায় আমি না দেখিলে, তোমার মুখের কথা না শুনিলে","তুমি ছাড়া আমি একা, পৃথিবীটা মেঘে ঢাকা","আবার দু'জনে দেখা হলো, কথা হলো","আব্বু আমার বন্ধু, আম্মু খেলার সাথী, একটি ঘরে জ্বলছে যেন তিনটি সুখের বাতি"...। শেষের এই গানটা মোটামুটি আমার জাতীয়সংগীত হয়ে গিয়েছিলো।

এই সিনেমা দেখার সময় বড়দের আলাপে শুনলাম আফজালের সংগে পাল্লা দিয়ে সুবর্ণা মুস্তফাও একই সময়ে আরেকটি সিনেমা করেছেন, নাম "স্ত্রী"। আম্মু, চাচীরা "স্ত্রী" সিনেমাটি দেখতে খুবই উদগ্রীব হয়ে উঠলেন, অতএব ওইটা দেখতেও সবাই মিলেই যাওয়া হলো। আমার কেমন লেগেছিলো পরিষ্কার মনে নেই তবে বড়দের দেখাদেখি আমিও বলছিলাম, এই সিনেমাটা খুব ভালো হয়েছে! যদিও আমাদের পিচ্চীদের কাছে "দুই জীবন"ই বেশি ভালো লেগেছিলো।

এরপরে বিরাট একটা সময় মনে হয় হলে গিয়ে কোন সিনেমা দেখা হয় নি। বাবার কলিগরা একেকজন নানান জেলায় ট্রান্সফার হয়ে গেলো। সেই চমৎকার গেট টুগেদার গেলো বন্ধ হয়ে। আমরাও হয়ে উঠতে শুরু করলাম একটু একটু করে বড়। এবং সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, শোনা গেলো সিনেমাহলের পরিবেশ এবং দর্শক সবই নাকি খারাপ হতে শুরু করেছে। এই সব নানান কারণে বাংলা সিনেমার প্রতি আকর্ষন সবারই কেন যেন একটু একটু করে কমতে শুরু করলো।

(চলবে)

Saturday, February 02, 2008

বইমেলা...তোমার কাছে যাবো

আমার একটা স্বভাব আছে, কখনও কখনও একটানা একই গান শুনতে থাকি...ঘন্টার পর ঘন্টা। আজ এরকম চলছে, "আমি বৃষ্টি দেখেছি", অঞ্জন দত্তর। শুনতে শুনতে মনটা গানের ভাবের মত হয়ে যায় নাকি আগে থেকেই মনটা তেমন হয়ে আছে বলেই আসলে গানটা শোনা হয়...ঠিক জানা নেই। তবে গান আর মন মিলে অদ্ভুত একটা পরিবেশ তৈরি হয়,
তৈরি হয়ে চলতে থাকে।

আজ দেশের কথা খুব বেশি মনে পড়ছে। বাবার কথা...।

মা'র কথা মনে পড়ে, মা কবি ছিলো না কিন্তু খুব সহজ করে জীবনের দর্শন বলে ফেলতো মাঝে মাঝে। একটা কথা বলতো, "মানুষ কেমন পাখি দেখো, কাল আমি কোথায় ছিলাম আর আজকে কোথায়?" বলে ফিক করে হেসে ফেলতো। এই কথাটা মা তেমন গুরুতর অর্থে যে বলতো না নয়। হয়তো একদিন বেড়াতে গেলাম টাংগাইলে, পরের দিন ঢাকার বাসায় ফিরেছি, তখন। মা'র দৌড় তো ছিলো সেই ঢাকা-টাংগাইল।

বইমেলা শুরু হয়ে গেলো। মা'র সেই কথাটা মনে হচ্ছে বারবার...মানুষ কেমন পাখি, মানুষ কেমন পাখি। আট বছর পর এই প্রথম আমি বইমেলায় যাচ্ছি না। পাখি হয়ে উড়ে উড়ে আমি চলে এসেছি এতটা দূরে যেখানে পৌঁছুতে গিয়ে ডানা গেছে কেটে! এখন আর উড়াল দেবার উপায় নেই। কার্জন বা রোকেয়া হল থেকে হেঁটে অথবা পল্লবী থেকে ভলভো বা ট্যাক্সি ধরে বইমেলায় যাবার কোন উপায় নেই। বইমেলার সামনের সুন্দর রাস্তাটার মাঝখান দিয়ে রাজার মত হেঁটে যাবারও কোন উপায় নেই রে গোলাম হোসেন।

তবুও "মনে তোরে পারলাম না বুঝাইতে রে হায়রে...তুই সে আমার মন..."