Sunday, November 18, 2007

ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং তারপর আমাদের দেশ

দেশটা কেন যেন স্বস্তি পায় না কখনই। যুদ্ধ করে অনেক ত্যাগে স্বাধীন হলো, এখন সেই স্বাধীনতা রক্ষা নিয়ে করতে হচ্ছে নতুন যুদ্ধ। দুর্নীতি যখন দেশের দরিদ্র মানুষদের আরো দরিদ্র করে দিচ্ছে, তখন তাদের পুরোপুরি নিঃসহায় করে দিতে উপাদান যোগাচ্ছে প্রকৃতি- বারবার। কখনও ভূমিধ্বস, কখনও প্রবল বন্যা, এবার প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়- সিডর!

১৯৯১ সালের ১৯শে এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছাসের ভয়াবহ স্মৃতি আমরা কখনও ভুলব না। এবারের ঘূর্ণিঝড়কে তুলনা করা হচ্ছে তার সাথে। বরং কেবল উপকূলীয় নয় এবার আক্রান্ত হয়েছে দেশের আরো অনেক অঞ্চল। খুলনা বিভাগের বরিশাল, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা, বরগুনা, বাগেরহাট, মাদারীপুর, পিরোজপুর, দুবলার চর সব জায়গায় প্রায় সহস্রাধিক মানুষ মারা গেছে। পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে মাটির সাথে মিশে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। পাকা ধান ঝড়ের তান্ডবে মিশে গেছে ক্ষেতের সাথে। দেশের বিদ্যুৎ অবস্থা, টেলিযোগাযোগ পুরোপুরি বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এই লেখাটি লিখেছিলাম, ঘূর্ণিঝড়ের খবর পাবার পরপর গতকাল। আজ খবর এসেছে আরো আরো আরো মৃত্যু আর লাশের...

হাজার হাজার মৃত্যু... যারা বেঁচে আছে তারা এখন কি নিয়ে বাঁচবে সর্বস্ব হারিয়ে? এখন পর্যন্ত জানা খবরে ৩ লাখ ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো ৫ লাখ ।

প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে করেই তবু বেঁচে থাকতে হয়েছে এদেশের মানুষকে বারবার। আবার যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে সহায় হতে হবে দেশের সমস্ত মানুষকে। জানি না কেমন করে কাটানো যেতে পারে এই ভয়াবহ বিপদ। যারা মারা গেছে তাদেরকে আমরা বাঁচাতে পারিনি, কিন্তু যারা এখনও কোন মতে বেঁচে আছে তাদের জন্য কি আমরা কিছু করতে পারি না? নিজেদের যার যা সামর্থ আছে সেইটুকু দিয়েই কি আমরা দেশের মানুষের এই বিপদের দিনে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি না?

যারা দেশে আছেন, জানি তাঁদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা সেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ সেই ভরসা রাখি। আর যার প্রবাসী, তাদের উপায় নেই সশরীরে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। তাই প্রিয় সচলায়তন ব্লগের ব্লগার ইশতিয়াক রউফ-এর দেয়া পেপাল লিংকটি এখানে দিচ্ছি। প্রবাসী যারা পড়ছেন এই লেখাটি, তাদের সবাইকে অনুরোধ করছি এই লিংকে যথাসাধ্য সাহায্য করতে।

http://www.bang.org.vt.edu/makhan.html

অথবা রেডক্রিসেন্টে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাটিও দিয়ে রাখছি এখানে।

Bangladesh Red Crescent Society
A/C No. 01-1336274-01
Standard Chartered Bank
Dhaka Bangladesh
SWIFT Code: SCBLBDDX

বন্যা, প্রবল বৃষ্টি, তারপর ঘূর্ণিঝড়...পাকা ফসল নিঃশেষ হয়ে গেলো। বাংলাদেশের কৃষক কাটিয়ে উঠুক এই মহাবিপদের দিন। সেই প্রার্থণা রইলো।

1 comment:

সৈয়দ ইরতেজা আলী said...

কি যে হয়েছে ইন্টারনেটে বসলেই মন খারাপ হয়ে যায়।