Posts

হাত বান্দিবো পাও বান্দিবো | শাহ আবদুল করিম

Image
শাহ আবদুল করিমের প্রয়াণ দিবসে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ কালচারাল এক্সচেঞ্জ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের জন্য “হাত বান্দিবো পাও বান্দিবো” এই গানটি গাইবো বলে ঠিক করেছিলাম। গানটি অসংখ্যবার শোনা হলেও নিজে গাওয়া হয়নি আগে। আমার খুব পছন্দের একজন শিল্পীর কণ্ঠে এটি শুনতে শুনতে প্রায় যখন তুলেই ফেলেছি - কণ্ঠে এবং ইউকুলেলেতে, তখন গানের বর্ণনা পড়তে গিয়ে দেখি, ইউটিউবে তাদের অফিসিয়াল সাইটে স্পষ্ট করে লেখা যে, গানটির শুধু প্রথম দুই লাইন শাহ আবদুল করিমের গান থেকে অনুপ্রাণিত, বাকি সুর এবং কথা আসলে অন্য আরেকটি প্রচলিত গান! ইউটিউবে গানটির আয়োজকরা তাদের অবস্থান সৎভাবে স্পষ্ট রেখেছেন, তারা দাবি না করলেও তুমুল জনপ্রিয় “আমার হাত বান্ধিবি পা বান্ধিবি” গানটি মানুষের মুখে মুখে বা বলা ভালো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাহ আবদুল করিমের গান হিসেবেই প্রচার পাচ্ছে। অনুষ্ঠানের জন্যে গান তৈরি করে দেয়ার ডেডলাইনের একদম শেষ পর্যায়ে গানটি নিয়ে উপরের তথ্য আবিষ্কার করে আমি মোটামুটি কিংকর্তব্যবিমুঢ় অবস্থায় চলে গেলাম। তারেক এবং আমি একমত হলাম যে, অন্তত শাহ আবদুল করিমের স্মরণে যে অনুষ্ঠান সেখানে তাঁর নিজের করা গান গাওয়াটাই যুক্তিযুক্ত হবে। পরে...

নজমুল আলবাবের " পাতা ঝরার আগের গল্প" - আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া বা স্মৃতির চর্বণ

Image
আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা নয়। গল্পের ছলে উল্টেপাল্টে আনা ফেলে আসা জীবন আর স্মৃতির এক মায়ার বাক্স "পাতা ঝরার আগের গল্প"। দেশ, মা, বাবা, মধ্যবিত্ত মফস্বলের জীবন- যেখানে কবিতা, গান বা নাটকের মত বোকা বোকা সংস্কৃতির চর্চা করা ছাপোষা মানুষেরা তাদের ছোট ছোট তীব্র সুখ, বেদনা এমনকি অপমান নিয়ে বেশ দিব্যি বেঁচে থাকে। কিছু "মফস্বলীয়" মানুষ আছে, জীবনভর ওরকমই গোঁয়ার থেকে যায়। তারা শহরতলির ক্ষুদ্র গন্ডি পেরিয়ে কোন এক উজ্জ্বল শহর বা/ এমনকি ভিনদেশে বাস করেও অনেক দূরের অথচ সবচেয়ে আপন নিজের দেশের স্মৃতি সম্বল করেই আজীবন বেঁচে থাকে। সেই সব পাঠক এক একটি গল্প পড়বেন আর একটু একটু করে কোথাও নিজেকে খুঁজে পাবেন। "পাতা ঝরার আগের গল্প" বইয়ের এই অত্যন্ত ছোট ছোট ফরম্যাটের গল্পগুলোকে "অণুগল্প" বলতে শিখেছিলাম অনেএএএক দিন আগে-  কৈশোরের কোন এক উজ্জ্বল দিনে, যেখানে "ভোরের কাগজ" বা "ভোকা" ছিলো, যেখানে "পাঠক ফোরাম"-এর জন্ম হয়েছিলো, সেখানে সঞ্জীব চৌধুরী আর গিয়াস আহমেদ "ফিচার" আর "অণুগল্প" লিখতে শিখিয়েছিলেন, কিছু ...

ক্যাফের শহর মেলবোর্ন

সোম থেকে শুক্রঃ প্রতি দিন ভোরবেলা লম্বা ট্রেন যাত্রা করে শহরতলী থেকে পৌঁছুই মেলবোর্ন শহরে।   ট্রেন থেকে নেমে কাজে যেতে মাত্র দু/ তিন মিনিটের পথ। এই দু/ তিন মিনিটে যে রাস্তাটা পার হই তার নাম Degrave Street। রাস্তার দুই পাশ জুড়ে সারি সারি ক্যাফে। অত ভোরেই পুরোপুরি ব্যস্ত সমস্ত হয়ে ওঠে ডিগ্রেভ ক্যাফে পাড়া আর ফ্রেশলি ব্রুড কফির মৌতাতে ম ম করে পুরো এলাকাটা। দু'টো পা ফেলার পরেই আমি বুকভরে শ্বাস নেই, আসলে নিঃশ্বাসের সাথে টেনে নিতে চাই পৃথিবীর সমস্ত সুগন্ধির চাইতেও যে গন্ধ আমার বেশি প্রিয় তাকে। একেকটা কফিশপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে   কফির মতই তাজা তাজা ছেলেমেয়েরা, তারা মিষ্টি হেসে ভোরের শুভেচ্ছা জানায়। তাদের সাথে হালকা মাথা নুইয়ে এগুতে এগুতে দেখি আরো আরো মানুষের মুখ। এই সব মানুষদের দেখে আমার কেবলই মনে হয় এদের বুঝি কোন কাজ নেই, এরা কেমন যেন, " তোমরা যা বলো তাই বলো/ আমার যায় বেলা বয়ে যায় বেলা/ কেমন বিনা কারণে " এরকম গোত্রের মানুষ। কারো মধ্যে কোন তাড়া নেই। ওরা আরাম করে বসে গ্যাছে, গোল গোল টেবিলগুলোর ধার ধরে। প্লেট ভর্তি খাবার - The famous Aussie big brekki। আছে পোচড এগস, বা স্ক্রাম্বল...

ম্যাজিকাল মোমেন্ট

Image
প্রতিবার   জন্মদিনের   আগে   আমাদের   কমন   প্রশ্ন   হচ্ছে  -  “ এবারের   জন্মদিনে   কি   চাস ”?  উত্তরটা   ও   কমন   দুজনের   তরফ   থেকেই ,  " কিচ্ছু   চাই   না   আমি " ।   ব্র্যাকেটে  " আজীবন   ভালোবাসা   ছাড়া ! " এবার   যখন   এই   প্রশ্ন   এলো ,  তখন   আমি   মাসরুফ   হোসেন   এর  " আগস্ট   আবছায়া "  পড়ছি।   জানিও   না   কোন   ফাঁকে   দুম   করে   বলে   ফেললাম ,  " শেলীর   কবিতার   বই   পড়তে   চাই। " একটা   কিছু   উত্তর   পেয়ে   সে   বেশ   নড়েচড়ে   বসলো ,  "আর"?  " শেলী   যদি   পড়ি   তাহলে   কিটসও   পড়তে   চাই ,  বাবার   মুখে   দুই   জনের   কথাই   শুনেছি। " " চমৎকার।   আর ?" আমাকে   তখন   ভু...

সকাল, বাবা আর রবিগুরুর গান

আজকের সকালটা মনোরম। কয়েকদিনের গরমের পরে বৃষ্টি, ঠান্ডা ঠান্ডা। তারপর এলো আলোঝরা রোদ। ট্রেনে জানালার পাশে বসে মনীন্দ্র গুপ্তর ভাষাতীত অসাধারণ লেখনীতে ”অক্ষয় মালবেরি” পড়তে পড়তে নিজের ছেলেবেলার টুকরো কিছু দৃশ্য মনের গহীন থেকে উঁকিঝুঁকি দিয়ে যাচ্ছে। ট্রেন থেকে নামার পথে সাহানার গলায় নতুন এই গানটা শুনে সকাল আর ট্রেনযাত্রার ষোলকলা পূর্ণ হলো। কারণ দৃশ্যপটে এবার চলে এসেছে বাবা। আমার ছোটবেলার দাপুটে বাবা নয়, সঙ্গিহীন একলা বাবা। যে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে মৃদু আওয়াজে রবীন্দ্রসংগীত শুনছে। একটু পরেই তার হাতে উঠবে খবরের কাগজ আর চা। আমি ঘরে ঢুকতেই বাবা তার স্নিগ্ধ হাসি মুখে মেখে রোজকার মত বললেন, “সকালবেলা রবীন্দ্রসংগীত শোনার সাথে কোন কিছুর তুলনা নেই, বুঝলি মা?  “  কি গা’বো আমি, কি শুনাবো “

কবিতা, আমার

কবেকার সেই ঘাস হয়ে যাওয়া হৃদয়ে কুয়াশামগ্ন অথই জলের মতন যে ভালোবাসা, সেইখানে অকস্মাৎ ভেসে ওঠে অপূর্ব শালুক, বুনোহাঁস- কবিতা মানেই আমার কাছে জীবনানন্দ দাশ! 

উপলব্ধি

কবেকার পুরনো সে বোধ ক্ষণে ক্ষণে, নিরবে নিভৃতে, নিঃশব্দ চিৎকারে- আজো জেগে থাকে মনের গহীনে। অনেক কাল কেটে গেছে তার নাম শুধায়ে। উত্তর আসে নি কোন। এখন আর উত্তরের কোন প্রত্যাশা নেই। আসলে, কোন কিছুরই কোন প্রত্যাশা নেই। যে জীবন চলে বাতাসের মত মৃদু-মন্দ অথবা দমকা ঝড়ো হাওয়ায়, তার কাছে, তাকে থামিয়ে, কিছু জানতে চাওয়ারও কোন মানে নেই। যে বোধ কখনও ছড়ালো না ডানা, কইলো না কোন কথা এত আকুলতায়, কেবল বছরের পর বছর একই একগুয়েমিতে বড্ড গোঁয়ারের মত ঘাপটি মেরে বসে রইলো সমস্ত চেতনা জুড়ে। জানিয়ে দিলো, “আমি সত্যি, মিথ্যা তোমার নিত্য দিনের আনন্দ চেষ্টা”- আজ দশটি বছর পরে, আমি নিজেই তার নাম দিলাম, শূণ্যতা।

মধুবন্তী

প্লেনে ওঠার আগ মুহুর্তে ওয়েটিং রুমে বসে আছি। এরকম কখনও হয় নি, আমার সত্যিই মনে হচ্ছিলো, গতকাল আমি দেশে এসে পৌঁছালাম, আর পরের দিনই ফিরে যাচ্ছি মেলবোর্ণের উদ্দেশ্যে। তিন বোন মিলে কত বেদনাময় তবুও আনন্দের সময় একে অপরকে জড়িয়ে রইলাম। কোন ফাঁকে কেটে গেলো একটা মাস?! দেশ থেকে ফেরার পথে আমি সাধারণত খুব রিচার্জড থাকি, বাকি কয়েকটা মাস দেশের আনন্দময় সময়ের স্মৃতি মাথায় নিয়ে পার করে দিবো, তারপরে এক বছরের মধ্যে আবার দেশে, এমন মনে হয়। এবার তেমন হলো না। এবারের দেশে আসাটা যে অন্য রকম ছিলো...। একলা বসে থাকতে থাকতে চোখ ভিজে ওঠে বারবার। ঠিক তখন পাশে বসে থাকা মহিলা তার মেয়েকে ডাকেন, “ মধুবন্তী”। আমি আনমনেই বলি তাকে, “এত সুন্দর নাম রেখেছেন মেয়ের?” খুব মিষ্টি, মায়া মায়া গর্বের হাসি হাসেন সেই মা। বলেন, “ সবাই বলে। আমি না, আমার মায়ের রাখা নাম।” বলেই একটু থামেন, খুব নরম গলায় বলেন, “খুব সুন্দর মন ছিলো আমার মায়ের”। বুঝতে পারি তার মা বেঁচে নেই। সাথে সাথে তার চেহারা আর কন্ঠের কোমল কষ্ট বড্ড বেশি পরিচিত লাগে আমার। ঝট করে মুখ ঘুরিয়ে নিই আমি, তিনিও। বোধ হয় কেউ কারো চোখের জল কাউকে দেখাতে চাই না। এর মাঝে ডাক পরে প্লেনে...

Hello!

The Day I lost my mother, You told me something seemed to be very weired.. You said, “don’t cry sweetheart, I’ll love you like your mother” People may think how a boyfriend could possibly love someone like her mom! But I believed you, Cause I knew how much you love me And I knew you can love me in every possible way. And you proved it my darling. Today I see you are my that old friend, Who became a lover day by day.. and even can care for me as my mother! I feel it when you push me for something, though I hate it, (knowing I would actually love it later!) To cover that up you then do something that makes me relaxed and not to feel to be pushed! Then you silently keep doing what you needed to do... Saying nothing you then say so much my dear.. I still believe you like that day, I just don’t have any idea how you do all that! And I’m a poor girl... can’t do anything... as you do, but only loving you like hell! I don’t even have a perfect word, Or at least an ...

মন কেমন করে

"মন কেমন করে"... এই কথাটা কেমন করে বলে গিয়েছিলো রবীন্দ্রনাথ? অনেকক্ষন ধরে শুয়ে ছিলাম, চোখ জুড়ে প্রচন্ড ঘুম। কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই ঘুম উধাও। আর মন...সে যে আজ কেমন করছে। যখন বুঝতে পারলাম, আজ আর ঘুম আসবে না, ঠিক তখন হঠাৎ ভীষন পড়তে ইচ্ছা করতে শুরু করলো। নিজেই খানিক অবাক হলাম, গত কয়েক বছরে এরকম কিছু খুচরো সময় হাতে পেলেই ইন্টারনেটে ঢুকে পড়ি। ফেসবুক...ঘুরতে থাকি। নয়ত গুগলে ঢুকে নানান বিষয়ে সার্চ দিয়ে খোঁজখবর নেই। আর যদি ইউটিউবে ঢুকে পড়ি তাহলে তো কথাই নেই। আজ এই সব কিচ্ছু করতে ইচ্ছা করলো না। খুব গান শুনতে ইচ্ছা করছে। মোবাইল থেকেই সোজা কবীর সুমনের রবীন্দ্রসংগীত চালিয়ে দেই, "নিত্য তোমার যে ফুল ফোটে ফুলবনে"। আর তখুনি হঠাৎ করেই যেন কিছু একটা ক্লিক করে উঠলো মনের মধে। শরীরজোড়া আলস্য ভেঙ্গে উঠে গিয়ে আমি অনেক আগের পড়া প্রিয় একটা বই দিয়ে এলাম পড়ব বলে, হুমায়ূন আহমেদের "দেবী", সাথে শান্তিমাখা সব রবি ঠাকুরের গান। ঠিক তার আগে ফেসবুকে দুম করে চোখ পড়তেই দেখি ইউনিভার্সিটির এক জুনিয়র বন্ধু তার ছোট বোনের সাথে একটা ছবি তুলে প্রোফাইলে পিকচার হিসেবে দিয়েছে, নিচ...

চিরন্তন

চুলে ইচ্ছামতন তেল দিলাম একটু আগে। এক সময় চুলে তেল দিতে এত বিরক্ত লাগতো! মামণি জোর করে ধরে চুলে তেল দিয়ে দিত, দেয়া শেষে তেলমাখা হাত কপালে আর গলায় ঘষে দিতো। আমি রাগে-বিরক্তিতে চিৎকার উঠতাম আর আম্মু বলতো, "আরে বুঝবি না, এত পড়াশুনা করিস, আরাম লাগবে দেখিস"। আমি প্রাণপণে ঘষে কপাল আর ঘাড়ের তেল তোলার চেষ্টা করতাম আর ভাবতাম, চুলে দিয়েছে দিক, কপাল-ঘাড়ের ব্যাপারটা কি?! বলা বাহুল্য, পরদিন চুলের শ্যাম্পুটাও আম্মুই করে দিতো। এখন আর এই সবের বালাই নেই। সেই স্বার্থহীন ভালোবাসা, শত মুখঝামটা সহ্য করেও কেবল মঙ্গলই চেয়ে যাওয়া... সেই সব রূপকথার মত স্মৃতি হয়ে গেছে সব। এখন শুধু এতটা বয়সে আম্মুর সেই সব বিরক্তিকর আদর, ভালোবাসা আর যত্নের জন্য মাঝে মাঝে নিজেকে এত বেশি কাঙাল মনে হয়! একটাবার, কোনভাবে, যেকোনভাবে যদি তার কাছে যেতে পারতাম... যত দূর হোক, শুধু যদি সেটা হতো এই পৃথিবীর কোন একটা জায়গা, আমি গিয়ে তার বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকতাম। মাগো, কত খারাপ ব্যবহার যে করেছি, কত মুখে মুখে তর্ক, বেয়াদবী, তোমার আদরের মূল্যটুকুই দিই নি কখনও। আর ক'টা দিন সময় দিতে মা, আরেকটু বড় হতাম, আরেকটু বুঝতে শিখতাম... আর যদি জা...

গঙ্গাফড়িং

শরীর খারাপ, সর্দি ভীষন, বেশ কয়েকদিন ধরেই। ভাগ্যিস, অসুখটা উইকেন্ডেই বেড়েছিলো, তাই রেস্ট নিতে পারলাম। আর আজ সিক কল দিয়ে দিলাম, টানা তিন দিনের অবসর। শরীরটা এখনও ভালো নেই। অষুধ খেয়েছিলাম, সেহেরীর আগে একটু ঘুমিয়ে নিলে ভালো হত, ঘুমটা সর্দির জন্য খুব ভালো কাজে দেয়। কিন্তু আজ কেমন যেন কি হয়েছে...তেমন অবশ্য কিছু না, ওই তো বাবার কথা খুব মনে হচ্ছে। বোকার মত বাবাকে একটা এস.এম.এস. ও দিয়ে ফেলেছি গলা ভেঙেছে বলে। আর তার সে কি টেনশান...আজ সবার সাথে ভীষন কথা বলতে ইচ্ছা করছে, তাই ধুমিয়ে এস.এম.এস. করে যাচ্ছি সবাইকে, গলাটা এরকম ভেঙ্গে না গেলে অনেক কথা বলা যেত। আর এখন খুব হাস্যকর ভাবে নিজের পুরনো লেখাগুলো পড়লাম বসে বসে। ব্লগস্পটেও যে কত ড্রাফট জমে আছে আমার! এই লেখাটাও একটা ড্রাফট হয়ে যেতে পারে শেষ মেষ কে জানে...হা হা হা। খুব লিখতে ইচ্ছা করছে কিছু যেন। একটা কোন গল্প। পুরনো গল্পগুলো পড়লাম, মাত্র কয়েকটাই, কিছুই হয় নি সেগুলো। তবু মায়া মায়া চোখে তাই পড়লাম। এখন যদি একটা এরকম কিছুই না-ও লিখতে পারতাম...কি যে একটা শান্তি হতো মনে।

ওয়াকা ওয়াকা এ ও...

রাত জেগে বিশ্বকাপের খেলাগুলোও দেখে চলছি নিয়মিত। খেলা দেখা মিস করতে আমি কিছুতেই রাজী না। আফটার অল, ইট হ্যাপেনস ওয়ান্স ইন ফোর ইয়ারস! পাড়ার মাঠের খেলা নাকি, বিশ্বকাপ বলে কথা। অবশ্য অস্ট্রেলিয়াতে খেলা দেখে বাংলাদেশের মত মজা আর কই? খেলা শুরু হবার সময় বেশ এক্সাইটেড হয়ে অফিসের সবাইকে এক এক করে জিজ্ঞেস করি, "বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া তো আছেই, আর কোন দল তুমি সাপোর্ট কর?" ব্যাটারা কিছুক্ষন বোঝেই না, চোখ কুঁচকে অবশেষে উলটা প্রশ্ন করে, "সকার"? মেজাজটা এমন খারাপ হয়, বিশ্বকাপ তো সকারেরই চলছে, ঢং! অবশ্য এদের বলে আর কি হবে? এরা ক্রিকেটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েও ক্রিকেটে উৎসাহ নেই, আর তো ফুটবল। সারা বছর আছে শুধু ফুটির তালে। এখানে খেলাগুলোর টাইমিং খুব ঝামেলায় ফেলে দিয়েছে। রাত বারোটা এবং ভোড় সাড়ে চারটায় হয় খেলাগুলো। সাড়ে চারটার খেলা শেষ হয় ভোর সাড়ে ছয়টায়! কখনও এক ঘুম দিয়ে উঠে খেলা দেখি, কখনও একবারে খেলা দেখে ঘুমাই। ইনফ্যাক্ট আমি অবশ্য বেশিরভাগই টানা জেগে থাকি, যেমন আজ আছি। এমন ব্যাপার দাঁড়িয়ে গেছে, এখন খেলা না থাকলেও ঘুম আসে না রাতে। সারা রাত ধরে জেগে থাকি, পরের দিন অফিসে যাই প্রচ...

নিঃশব্দে

সংগীর অভাব আমার হয় নি কোনদিনই - এই যে দেখো বইয়ের তাকে আর একটুখানি জায়গাও নেই অবশিষ্ট। গানের জলসায় যাওয়া হয় না আজকাল ঠিকই, তাই বলে গান শুনি না ভাবো না নিশ্চয়ই! গানের বাজারজাতকরণ ব্যাপারটা মন্দ নয় কি বল? যদিও ইদানিং আগের মত খবরের কাগজে খুঁজি না আজ কোথায় কখন কোন নাটকের শো চলছে, অথবা ভালো লাগা মুভির ফেস্টিভাল। কিন্তু সব আছে ডিভিডি হয়ে, হাতের কাছেই অন্য সব কিছুর মতই। আর আছে বিশ্বজোড়া জাল ছড়ানো এক গণকবাক্স। এত কিছু নিয়ে কাটানোর মত সময়গুলো অতিরিক্ত হয়ে যায় নি কখনই তাই আমার জন্য। বুঝতে পারছো তো? তোমাকে আজকের ব্যস্ত বিকালটার কথাই বলি নাহয়-- আজ কি হলো জানো? বিকাল বেলা হঠাত সে কি উত্তাল বাতাস! ঝড় ! আমি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াতেই ভীষণ বাতাসে আমার স্কার্টের ঝুল গোল হয়ে ফুলে উঠলো! ঠিক ছোট্টবেলায় যেমন ঘরের কোনায় দাঁড়াতাম ফ্যানের বাতাসে ফ্রকের ঝুল ফোলাতে! আর ঠিক তখনই আমার একটুখানি, হ্যা খুব একটুখানিই তোমার কথা মনে হলো... ধানমন্ডি লেকে বেড়াতে গিয়ে একদিন হঠাত এমনি ঝড়ের কবলে পড়েছিলাম আমরা, তোমার মনে পড়ে? সবাই যখন ছুটোছুটি করে আশ্রয় খুঁজতে ব্যস্ত, তখন তুমি আর আমি হাত ধরে লেকের পাড়ের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে! আমি ...

রেললাইনে বডি দেবো, মাথা দেবো না

নাহ, অনেক হয়েছে, এইবার আমি সিদ্ধান্তে অটলঃ আগামীকাল থেকে চিনি বন্ধ। ব্যাপারটা এরকম মোটেই নয় যে আমি খুব মিষ্টি খেতে পছন্দ করি। বরং মিষ্টিজাতীয় যেকোন খাবারে যথেষ্ট অনীহাই রয়েছে। কিন্তু ঝামেলা বাধাচ্ছে একটা খাবার, থুড়ি পানীয়। আর কি...চা নয়ত কফি। চা-কফিতে ব্যাপক আসক্তি আমার, এবং সেটা চিনি সহ। প্রতি কাপে মিনিমাম এক চামচ চিনি খাই। তো দিনে তিন কাপ চা/কফি খেলে একদম ডিরেক্টলি তিন চামচ চিনি পেটে ঢুকে যাচ্ছে। তাইলে আর কেমনে কি? বয়স বাড়ছে, দিনে এক্সারসাইজ বলতে বাড়ি থেকে স্টেশন পর্যন্ত সতেরো মিনিট হাঁটা...আর কিছু না হলেও এই তিন চামচ করে চিনি তো শরীরে জমেই যাচ্ছে। গত আড়াই বছরে দশ কেজি ওজন কি এমনি এমনি বাড়লো? আড়াই বছর মানে ৯১২ দিন, মানে ২৭৩৭ চামচ চিনি!!! আজ রাতে যেহেতু ইতিমধ্যেই চা খেয়ে ফেলেছি, আগামীকাল থেকেই তাহলে শুরু। মরি-বাঁচি, চায়ে অন্তত চিনি খাবো না।

মধ্যপথে ঠেকলো গাড়ি...

কুয়ালামপুরে বসে লিখছি। আমার এখনও বিশ্বাসই হচ্ছে না যে আমি সত্যি সত্যি দেশে যাচ্ছি! এরকম হয়, যে ব্যাপারগুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি উতসাহ, আগ্রহ, প্রত্যাশা, অপেক্ষা বা এমন যেকোন ভালো লাগা বা কষ্টের অতি মানবীয় আবেগ জড়িয়ে থাকে, সেই ব্যাপারগুলো চোখের সামনে চলে এলে আমি ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারি না। এয়ারপোর্টে তারুকে ফেলে যখন ইমিগ্রেশান পার হচ্ছিলাম, তখন আবার এটাও বিশ্বাস হচ্ছিলো না যে আমি সত্যি একা যাচ্ছি। তারুর সাথে যেকোন কিছু শেয়ার করে নিতে ভালো লাগে। নিশ্চিন্ত লাগে। আজ প্লেনে মোবাইল ফোনটা সুইচ অফ করবার পরেও কতবার যে কত কারনে ওকে কল করতে ইচ্ছা করেছে...। জানা কিছু ব্যাপার, তবু কথা বলে মিলিয়ে নিতে ভালো লাগে। মানুষ আজব ভীষণ। একই সাথে ভালো লাগা আর কষ্টের মিশেল দিয়ে কি যেন আজব এক আজব অনুভূতি হয়। এতদিন পরে দেশে যাচ্ছি সেই আনন্দ, আবার সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে ছেড়ে দশটা দিন আলাদা থাকাটাও অনেক কষ্টের। এই মানুষটার কাছে থাকবার জন্যই তো দেশ আর বাবা, আপু, বন্ধুদের ছেড়ে আসা! কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে এই প্রথম এলাম। অনেক গরম বাইরে। নেমেই একটা মজার ব্যাপার হলো, দু'টো বাংলাদেশি ছেলে, এখানেই থাকে বোধ করি, আমাকে ন...

আমি গাই ঘরে ফেরার গান...

ঈদে আমার রান্নাবান্নার ফিরিস্তি শুনে বাবা খুব চিন্তায় পড়েছে, ভাবছে আমার ছোট্ট মেয়েটা কি বেশি গিন্নী গিন্নী হয়ে গেলো? এবার যখন দেশে আসবে তখন সেই আদরের মেয়েটাকে পাবো না? আমার খুব আনন্দ লাগে, আমার চোখে পানি চলে আসে...। এই সেই মানুষ, যে বয়সের হিসাব দিয়ে আমাকে পরিপক্ক হয়ে যেতে দেখতে চায় না। আমার কাছে জাগতিক লাভ-লোকসানের কোন চাহিদা নেই তো তার, আছে কেবল অসীম মমতা। ভালোবাসা-মমতায় সেইসব হিসাব কি চলে? কিন্তু বাবা, এখানে, তোমার থেকে এত দূরে, অচেনা সব আবছায়া মানুষদের ভীড়ে বড় তো আমাকে হতেই হয়, অন্তত অভিনয়, নইলে যে কেবল অভিযোগ! অনেক হলো বাবা, আবার ক'টা দিন, অন্তত সামান্য ক'টা দিন তোমার কাছে এসে আবার আগের আমি হতে চাই, যেখানে সমস্ত আবদার কেবল আমিই করব, ইচ্ছেমত যত খুশি যন্ত্রণা করব তোমাকে...। সেইসব যন্ত্রণা ঈশ্বরের উপহার ভেবে বুকে জড়াবে তুমি, জানি আমি। তাই তো বলছো আজীবন, তেমন করেই আগলে রেখেছিলে...অনেক অপেক্ষার পরও মা'র বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি নি আমি, কখনও পারবোও না। তোমার গলা জড়িয়ে আবার একটু কাঁদতে চাই বাবা, একটু হাসতে চাই... আসছি বাবা, আর মাত্র ক'টা দিন।

নেটবুক নিয়ে মহা খুশি

ইদানিং ছুটির দিনগুলো বেশ মজা করে কাটছে...ছুটির মত করেই। সকালে ইচ্ছামত অনেক ঘুমানো হচ্ছে, আবার তারপরে অনেক ঘুরাঘুরিও হচ্ছে, প্রায় চর্কিবাজি। সামনে দেশে যাবো ইনশাল্লাহ, সেই সূত্র ধরে টুকটাক শপিং-ও চলছে। আজকেও খানিকটা তাই। হালকা পাতলা কেনাকাটা করলেও করতে পারি এরকম ভাব নিয়ে বেরিয়েছিলাম। কেমনে কেমনে যেন ফাটাফাটি সেল পেয়ে একটা দারুন জিনিস কিনে ফেললাম, একদম আনপ্ল্যান্ড! একটা পুচকি সাইজের নেটবুক। ল্যাপটপ বা নোটবুকের খালাতো ভাই বলা যায়। ১০ ইঞ্চি স্ক্রীন, পুরা ব্যাপারটাই কিউট লাগে আমার। খুব খুশি লাগছে। পুচকিটাকে পেটের ওপর ফেলে রাত-দুপুরে টাইপিং করতেও খুব মজা লাগছে। আজকে, আবার অনেক দিন পরে ব্লগস্পটে ঢুঁ মারলাম ওরই অনারে। থ্যাঙ্ক ইউ মাই নিউ মেট। :-)

বলিও আমার পরদেশীরে

টুক টুক করে যেতে যেতে তারপর বেশ ঘট ঘট করেই চলে যায়- সময়। এটা সেটা ভাবি, সেইসব জঞ্জাল নিয়ে লিখব বলেও ভাবি, লিখা হয় ওঠে না। কতটা সময় গিয়েছে মাঝে? উত্তর জানতে কষ্ট করে পেছনে তাকাতে হলো না, ডানে "সাম্প্রতিক লেখা" তে একটা ক্লিক করেই জানা গেলো, শেষটা ছিলো গত নভেম্বরে! খুব টান পড়েছে সূতোয়, একটু আলগা করার চেষ্টা করেই দেখি না। কিন্তু অনেক দিনের বিচ্ছিন্নতায় কেমন আড়ষ্টতা পেয়ে বসছে। এখন কি এসব লিখতে পারবো? এই রোজকার আটপৌরে জীবন নিয়ে? ও তো সবাই পার করে, রোজ। তবু লিখব আজ, কিছু একটা, ভীষন এলোমেলো করেই নাহয়। আজ আবার সচল হবো। লিখবো কেমন পাখির মত উড়ে উড়ে বেড়াচ্ছি... "তোমরা রেকর্ড করে ফেলেছো, গত আট মাসে তিনটা ভিন্ন বাসায় থাকছো!"। আমি হাসি। "পরের জায়গা পরের জমি, ঘর বানাইয়া আমি রই/ আমি তো ভাই জমির মালিক নই"। এই ভিন দেশ, তার আবার বাড়িঘর, ভাবি "একখানে থাকলেই হইলো"। উহু, তাও কেমন যেন নির্লজ্জের মত মায়া পড়ে যায়, মানুষ হবার জ্বালা। এসব কি কেউ লিখে? [গাড়ি খানিক চলছে বোধ হয়, অনেক দিন পরে তেল পড়ে লাফাচ্ছে, কখন দড়াম করে হোচট খায় তাই ভাবছি!] অফিস যাবার রাস্তাটা বদলেছে। এখন বা...

বরষার প্রথম দিনে...

মাথার ভেতর একগাদা গান ঘিড়িং পিড়িং করে ঘুরছে। একবার গেয়ে ফেলছি "আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে দুয়ার কাঁপে/ ক্ষনে ক্ষনে ঘরের বাঁধন যায়, যায় বুঝি আজ টুটে"। তারপরেই মনে হলো, আরে না আজ তো শ্রাবণ নয়, আষাঢ়- পহেলা আষাঢ়। এরপরে লতা মুঙেশকরের "আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন"। আছে হুমায়ূন আহমেদের "বরষার প্রথম দিনে/ ঘনকালো মেঘ দেখে/ আনন্দে যদি কাঁপে তোমার হৃদয়/ সেদিন তাহার সাথে কর পরিচয়/ কাছাকাছি থেকেও যে কভু কাছে নয়"। হুম, আজ বরষার প্রথম দিন। আজ আর তেমন কিছু নয়। কিন্তু তবু আজ আমার কাজে যেতে ইচ্ছা করছে না...ঠিক কি ইচ্ছা করছে তাও অবশ্য বুঝতে পারছি না। ভালো একটা কিছু কাজ করা যায়? রোজ তো সেই একই শুরু হয়েছে ক'দিন ধরে, রাতে ঘুমুতে যাবার আগে ইন্টারনেটে বাসা খোঁজা, কবে কোনটার ইন্সপেকশান মার্ক করে রাখা, সকালে উঠে এপ্লিকেশন রেডি কর, দৌড়াও সেইটা নিয়ে...এইসব হাবিজাবি...নট ব্যাড, নট দ্যাট ব্যাড। আজকেও তো তাই...এখন কি কাজের কাজ করব কিছু? অগোছালো রান্নাঘর গুছাবো? উহু পারবো না, ইচ্ছাই করছে না। ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটা বের করে এলাম, কিন্তু এসে আবার হাবিজাবি লিখতে বসলাম...দেড়টা বেজে গেলো, আর তো লিখ...