Posts

উপলব্ধি

কবেকার পুরনো সে বোধ ক্ষণে ক্ষণে, নিরবে নিভৃতে, নিঃশব্দ চিৎকারে- আজো জেগে থাকে মনের গহীনে। অনেক কাল কেটে গেছে তার নাম শুধায়ে। উত্তর আসে নি কোন। এখন আর উত্তরের কোন প্রত্যাশা নেই। আসলে, কোন কিছুরই কোন প্রত্যাশা নেই। যে জীবন চলে বাতাসের মত মৃদু-মন্দ অথবা দমকা ঝড়ো হাওয়ায়, তার কাছে, তাকে থামিয়ে, কিছু জানতে চাওয়ারও কোন মানে নেই। যে বোধ কখনও ছড়ালো না ডানা, কইলো না কোন কথা এত আকুলতায়, কেবল বছরের পর বছর একই একগুয়েমিতে বড্ড গোঁয়ারের মত ঘাপটি মেরে বসে রইলো সমস্ত চেতনা জুড়ে। জানিয়ে দিলো, “আমি সত্যি, মিথ্যা তোমার নিত্য দিনের আনন্দ চেষ্টা”- আজ দশটি বছর পরে, আমি নিজেই তার নাম দিলাম, শূণ্যতা।

মধুবন্তী

প্লেনে ওঠার আগ মুহুর্তে ওয়েটিং রুমে বসে আছি। এরকম কখনও হয় নি, আমার সত্যিই মনে হচ্ছিলো, গতকাল আমি দেশে এসে পৌঁছালাম, আর পরের দিনই ফিরে যাচ্ছি মেলবোর্ণের উদ্দেশ্যে। তিন বোন মিলে কত বেদনাময় তবুও আনন্দের সময় একে অপরকে জড়িয়ে রইলাম। কোন ফাঁকে কেটে গেলো একটা মাস?! দেশ থেকে ফেরার পথে আমি সাধারণত খুব রিচার্জড থাকি, বাকি কয়েকটা মাস দেশের আনন্দময় সময়ের স্মৃতি মাথায় নিয়ে পার করে দিবো, তারপরে এক বছরের মধ্যে আবার দেশে, এমন মনে হয়। এবার তেমন হলো না। এবারের দেশে আসাটা যে অন্য রকম ছিলো...। একলা বসে থাকতে থাকতে চোখ ভিজে ওঠে বারবার। ঠিক তখন পাশে বসে থাকা মহিলা তার মেয়েকে ডাকেন, “ মধুবন্তী”। আমি আনমনেই বলি তাকে, “এত সুন্দর নাম রেখেছেন মেয়ের?” খুব মিষ্টি, মায়া মায়া গর্বের হাসি হাসেন সেই মা। বলেন, “ সবাই বলে। আমি না, আমার মায়ের রাখা নাম।” বলেই একটু থামেন, খুব নরম গলায় বলেন, “খুব সুন্দর মন ছিলো আমার মায়ের”। বুঝতে পারি তার মা বেঁচে নেই। সাথে সাথে তার চেহারা আর কন্ঠের কোমল কষ্ট বড্ড বেশি পরিচিত লাগে আমার। ঝট করে মুখ ঘুরিয়ে নিই আমি, তিনিও। বোধ হয় কেউ কারো চোখের জল কাউকে দেখাতে চাই না। এর মাঝে ডাক পরে প্লেনে...

Hello!

The Day I lost my mother, You told me something seemed to be very weired.. You said, “don’t cry sweetheart, I’ll love you like your mother” People may think how a boyfriend could possibly love someone like her mom! But I believed you, Cause I knew how much you love me And I knew you can love me in every possible way. And you proved it my darling. Today I see you are my that old friend, Who became a lover day by day.. and even can care for me as my mother! I feel it when you push me for something, though I hate it, (knowing I would actually love it later!) To cover that up you then do something that makes me relaxed and not to feel to be pushed! Then you silently keep doing what you needed to do... Saying nothing you then say so much my dear.. I still believe you like that day, I just don’t have any idea how you do all that! And I’m a poor girl... can’t do anything... as you do, but only loving you like hell! I don’t even have a perfect word, Or at least an ...

মন কেমন করে

"মন কেমন করে"... এই কথাটা কেমন করে বলে গিয়েছিলো রবীন্দ্রনাথ? অনেকক্ষন ধরে শুয়ে ছিলাম, চোখ জুড়ে প্রচন্ড ঘুম। কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই ঘুম উধাও। আর মন...সে যে আজ কেমন করছে। যখন বুঝতে পারলাম, আজ আর ঘুম আসবে না, ঠিক তখন হঠাৎ ভীষন পড়তে ইচ্ছা করতে শুরু করলো। নিজেই খানিক অবাক হলাম, গত কয়েক বছরে এরকম কিছু খুচরো সময় হাতে পেলেই ইন্টারনেটে ঢুকে পড়ি। ফেসবুক...ঘুরতে থাকি। নয়ত গুগলে ঢুকে নানান বিষয়ে সার্চ দিয়ে খোঁজখবর নেই। আর যদি ইউটিউবে ঢুকে পড়ি তাহলে তো কথাই নেই। আজ এই সব কিচ্ছু করতে ইচ্ছা করলো না। খুব গান শুনতে ইচ্ছা করছে। মোবাইল থেকেই সোজা কবীর সুমনের রবীন্দ্রসংগীত চালিয়ে দেই, "নিত্য তোমার যে ফুল ফোটে ফুলবনে"। আর তখুনি হঠাৎ করেই যেন কিছু একটা ক্লিক করে উঠলো মনের মধে। শরীরজোড়া আলস্য ভেঙ্গে উঠে গিয়ে আমি অনেক আগের পড়া প্রিয় একটা বই দিয়ে এলাম পড়ব বলে, হুমায়ূন আহমেদের "দেবী", সাথে শান্তিমাখা সব রবি ঠাকুরের গান। ঠিক তার আগে ফেসবুকে দুম করে চোখ পড়তেই দেখি ইউনিভার্সিটির এক জুনিয়র বন্ধু তার ছোট বোনের সাথে একটা ছবি তুলে প্রোফাইলে পিকচার হিসেবে দিয়েছে, নিচ...

চিরন্তন

চুলে ইচ্ছামতন তেল দিলাম একটু আগে। এক সময় চুলে তেল দিতে এত বিরক্ত লাগতো! মামণি জোর করে ধরে চুলে তেল দিয়ে দিত, দেয়া শেষে তেলমাখা হাত কপালে আর গলায় ঘষে দিতো। আমি রাগে-বিরক্তিতে চিৎকার উঠতাম আর আম্মু বলতো, "আরে বুঝবি না, এত পড়াশুনা করিস, আরাম লাগবে দেখিস"। আমি প্রাণপণে ঘষে কপাল আর ঘাড়ের তেল তোলার চেষ্টা করতাম আর ভাবতাম, চুলে দিয়েছে দিক, কপাল-ঘাড়ের ব্যাপারটা কি?! বলা বাহুল্য, পরদিন চুলের শ্যাম্পুটাও আম্মুই করে দিতো। এখন আর এই সবের বালাই নেই। সেই স্বার্থহীন ভালোবাসা, শত মুখঝামটা সহ্য করেও কেবল মঙ্গলই চেয়ে যাওয়া... সেই সব রূপকথার মত স্মৃতি হয়ে গেছে সব। এখন শুধু এতটা বয়সে আম্মুর সেই সব বিরক্তিকর আদর, ভালোবাসা আর যত্নের জন্য মাঝে মাঝে নিজেকে এত বেশি কাঙাল মনে হয়! একটাবার, কোনভাবে, যেকোনভাবে যদি তার কাছে যেতে পারতাম... যত দূর হোক, শুধু যদি সেটা হতো এই পৃথিবীর কোন একটা জায়গা, আমি গিয়ে তার বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকতাম। মাগো, কত খারাপ ব্যবহার যে করেছি, কত মুখে মুখে তর্ক, বেয়াদবী, তোমার আদরের মূল্যটুকুই দিই নি কখনও। আর ক'টা দিন সময় দিতে মা, আরেকটু বড় হতাম, আরেকটু বুঝতে শিখতাম... আর যদি জা...

গঙ্গাফড়িং

শরীর খারাপ, সর্দি ভীষন, বেশ কয়েকদিন ধরেই। ভাগ্যিস, অসুখটা উইকেন্ডেই বেড়েছিলো, তাই রেস্ট নিতে পারলাম। আর আজ সিক কল দিয়ে দিলাম, টানা তিন দিনের অবসর। শরীরটা এখনও ভালো নেই। অষুধ খেয়েছিলাম, সেহেরীর আগে একটু ঘুমিয়ে নিলে ভালো হত, ঘুমটা সর্দির জন্য খুব ভালো কাজে দেয়। কিন্তু আজ কেমন যেন কি হয়েছে...তেমন অবশ্য কিছু না, ওই তো বাবার কথা খুব মনে হচ্ছে। বোকার মত বাবাকে একটা এস.এম.এস. ও দিয়ে ফেলেছি গলা ভেঙেছে বলে। আর তার সে কি টেনশান...আজ সবার সাথে ভীষন কথা বলতে ইচ্ছা করছে, তাই ধুমিয়ে এস.এম.এস. করে যাচ্ছি সবাইকে, গলাটা এরকম ভেঙ্গে না গেলে অনেক কথা বলা যেত। আর এখন খুব হাস্যকর ভাবে নিজের পুরনো লেখাগুলো পড়লাম বসে বসে। ব্লগস্পটেও যে কত ড্রাফট জমে আছে আমার! এই লেখাটাও একটা ড্রাফট হয়ে যেতে পারে শেষ মেষ কে জানে...হা হা হা। খুব লিখতে ইচ্ছা করছে কিছু যেন। একটা কোন গল্প। পুরনো গল্পগুলো পড়লাম, মাত্র কয়েকটাই, কিছুই হয় নি সেগুলো। তবু মায়া মায়া চোখে তাই পড়লাম। এখন যদি একটা এরকম কিছুই না-ও লিখতে পারতাম...কি যে একটা শান্তি হতো মনে।

ওয়াকা ওয়াকা এ ও...

রাত জেগে বিশ্বকাপের খেলাগুলোও দেখে চলছি নিয়মিত। খেলা দেখা মিস করতে আমি কিছুতেই রাজী না। আফটার অল, ইট হ্যাপেনস ওয়ান্স ইন ফোর ইয়ারস! পাড়ার মাঠের খেলা নাকি, বিশ্বকাপ বলে কথা। অবশ্য অস্ট্রেলিয়াতে খেলা দেখে বাংলাদেশের মত মজা আর কই? খেলা শুরু হবার সময় বেশ এক্সাইটেড হয়ে অফিসের সবাইকে এক এক করে জিজ্ঞেস করি, "বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া তো আছেই, আর কোন দল তুমি সাপোর্ট কর?" ব্যাটারা কিছুক্ষন বোঝেই না, চোখ কুঁচকে অবশেষে উলটা প্রশ্ন করে, "সকার"? মেজাজটা এমন খারাপ হয়, বিশ্বকাপ তো সকারেরই চলছে, ঢং! অবশ্য এদের বলে আর কি হবে? এরা ক্রিকেটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েও ক্রিকেটে উৎসাহ নেই, আর তো ফুটবল। সারা বছর আছে শুধু ফুটির তালে। এখানে খেলাগুলোর টাইমিং খুব ঝামেলায় ফেলে দিয়েছে। রাত বারোটা এবং ভোড় সাড়ে চারটায় হয় খেলাগুলো। সাড়ে চারটার খেলা শেষ হয় ভোর সাড়ে ছয়টায়! কখনও এক ঘুম দিয়ে উঠে খেলা দেখি, কখনও একবারে খেলা দেখে ঘুমাই। ইনফ্যাক্ট আমি অবশ্য বেশিরভাগই টানা জেগে থাকি, যেমন আজ আছি। এমন ব্যাপার দাঁড়িয়ে গেছে, এখন খেলা না থাকলেও ঘুম আসে না রাতে। সারা রাত ধরে জেগে থাকি, পরের দিন অফিসে যাই প্রচ...