Posts

গঙ্গাফড়িং

শরীর খারাপ, সর্দি ভীষন, বেশ কয়েকদিন ধরেই। ভাগ্যিস, অসুখটা উইকেন্ডেই বেড়েছিলো, তাই রেস্ট নিতে পারলাম। আর আজ সিক কল দিয়ে দিলাম, টানা তিন দিনের অবসর। শরীরটা এখনও ভালো নেই। অষুধ খেয়েছিলাম, সেহেরীর আগে একটু ঘুমিয়ে নিলে ভালো হত, ঘুমটা সর্দির জন্য খুব ভালো কাজে দেয়। কিন্তু আজ কেমন যেন কি হয়েছে...তেমন অবশ্য কিছু না, ওই তো বাবার কথা খুব মনে হচ্ছে। বোকার মত বাবাকে একটা এস.এম.এস. ও দিয়ে ফেলেছি গলা ভেঙেছে বলে। আর তার সে কি টেনশান...আজ সবার সাথে ভীষন কথা বলতে ইচ্ছা করছে, তাই ধুমিয়ে এস.এম.এস. করে যাচ্ছি সবাইকে, গলাটা এরকম ভেঙ্গে না গেলে অনেক কথা বলা যেত। আর এখন খুব হাস্যকর ভাবে নিজের পুরনো লেখাগুলো পড়লাম বসে বসে। ব্লগস্পটেও যে কত ড্রাফট জমে আছে আমার! এই লেখাটাও একটা ড্রাফট হয়ে যেতে পারে শেষ মেষ কে জানে...হা হা হা। খুব লিখতে ইচ্ছা করছে কিছু যেন। একটা কোন গল্প। পুরনো গল্পগুলো পড়লাম, মাত্র কয়েকটাই, কিছুই হয় নি সেগুলো। তবু মায়া মায়া চোখে তাই পড়লাম। এখন যদি একটা এরকম কিছুই না-ও লিখতে পারতাম...কি যে একটা শান্তি হতো মনে।

ওয়াকা ওয়াকা এ ও...

রাত জেগে বিশ্বকাপের খেলাগুলোও দেখে চলছি নিয়মিত। খেলা দেখা মিস করতে আমি কিছুতেই রাজী না। আফটার অল, ইট হ্যাপেনস ওয়ান্স ইন ফোর ইয়ারস! পাড়ার মাঠের খেলা নাকি, বিশ্বকাপ বলে কথা। অবশ্য অস্ট্রেলিয়াতে খেলা দেখে বাংলাদেশের মত মজা আর কই? খেলা শুরু হবার সময় বেশ এক্সাইটেড হয়ে অফিসের সবাইকে এক এক করে জিজ্ঞেস করি, "বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া তো আছেই, আর কোন দল তুমি সাপোর্ট কর?" ব্যাটারা কিছুক্ষন বোঝেই না, চোখ কুঁচকে অবশেষে উলটা প্রশ্ন করে, "সকার"? মেজাজটা এমন খারাপ হয়, বিশ্বকাপ তো সকারেরই চলছে, ঢং! অবশ্য এদের বলে আর কি হবে? এরা ক্রিকেটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েও ক্রিকেটে উৎসাহ নেই, আর তো ফুটবল। সারা বছর আছে শুধু ফুটির তালে। এখানে খেলাগুলোর টাইমিং খুব ঝামেলায় ফেলে দিয়েছে। রাত বারোটা এবং ভোড় সাড়ে চারটায় হয় খেলাগুলো। সাড়ে চারটার খেলা শেষ হয় ভোর সাড়ে ছয়টায়! কখনও এক ঘুম দিয়ে উঠে খেলা দেখি, কখনও একবারে খেলা দেখে ঘুমাই। ইনফ্যাক্ট আমি অবশ্য বেশিরভাগই টানা জেগে থাকি, যেমন আজ আছি। এমন ব্যাপার দাঁড়িয়ে গেছে, এখন খেলা না থাকলেও ঘুম আসে না রাতে। সারা রাত ধরে জেগে থাকি, পরের দিন অফিসে যাই প্রচ...

নিঃশব্দে

সংগীর অভাব আমার হয় নি কোনদিনই - এই যে দেখো বইয়ের তাকে আর একটুখানি জায়গাও নেই অবশিষ্ট। গানের জলসায় যাওয়া হয় না আজকাল ঠিকই, তাই বলে গান শুনি না ভাবো না নিশ্চয়ই! গানের বাজারজাতকরণ ব্যাপারটা মন্দ নয় কি বল? যদিও ইদানিং আগের মত খবরের কাগজে খুঁজি না আজ কোথায় কখন কোন নাটকের শো চলছে, অথবা ভালো লাগা মুভির ফেস্টিভাল। কিন্তু সব আছে ডিভিডি হয়ে, হাতের কাছেই অন্য সব কিছুর মতই। আর আছে বিশ্বজোড়া জাল ছড়ানো এক গণকবাক্স। এত কিছু নিয়ে কাটানোর মত সময়গুলো অতিরিক্ত হয়ে যায় নি কখনই তাই আমার জন্য। বুঝতে পারছো তো? তোমাকে আজকের ব্যস্ত বিকালটার কথাই বলি নাহয়-- আজ কি হলো জানো? বিকাল বেলা হঠাত সে কি উত্তাল বাতাস! ঝড় ! আমি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াতেই ভীষণ বাতাসে আমার স্কার্টের ঝুল গোল হয়ে ফুলে উঠলো! ঠিক ছোট্টবেলায় যেমন ঘরের কোনায় দাঁড়াতাম ফ্যানের বাতাসে ফ্রকের ঝুল ফোলাতে! আর ঠিক তখনই আমার একটুখানি, হ্যা খুব একটুখানিই তোমার কথা মনে হলো... ধানমন্ডি লেকে বেড়াতে গিয়ে একদিন হঠাত এমনি ঝড়ের কবলে পড়েছিলাম আমরা, তোমার মনে পড়ে? সবাই যখন ছুটোছুটি করে আশ্রয় খুঁজতে ব্যস্ত, তখন তুমি আর আমি হাত ধরে লেকের পাড়ের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে! আমি ...

রেললাইনে বডি দেবো, মাথা দেবো না

নাহ, অনেক হয়েছে, এইবার আমি সিদ্ধান্তে অটলঃ আগামীকাল থেকে চিনি বন্ধ। ব্যাপারটা এরকম মোটেই নয় যে আমি খুব মিষ্টি খেতে পছন্দ করি। বরং মিষ্টিজাতীয় যেকোন খাবারে যথেষ্ট অনীহাই রয়েছে। কিন্তু ঝামেলা বাধাচ্ছে একটা খাবার, থুড়ি পানীয়। আর কি...চা নয়ত কফি। চা-কফিতে ব্যাপক আসক্তি আমার, এবং সেটা চিনি সহ। প্রতি কাপে মিনিমাম এক চামচ চিনি খাই। তো দিনে তিন কাপ চা/কফি খেলে একদম ডিরেক্টলি তিন চামচ চিনি পেটে ঢুকে যাচ্ছে। তাইলে আর কেমনে কি? বয়স বাড়ছে, দিনে এক্সারসাইজ বলতে বাড়ি থেকে স্টেশন পর্যন্ত সতেরো মিনিট হাঁটা...আর কিছু না হলেও এই তিন চামচ করে চিনি তো শরীরে জমেই যাচ্ছে। গত আড়াই বছরে দশ কেজি ওজন কি এমনি এমনি বাড়লো? আড়াই বছর মানে ৯১২ দিন, মানে ২৭৩৭ চামচ চিনি!!! আজ রাতে যেহেতু ইতিমধ্যেই চা খেয়ে ফেলেছি, আগামীকাল থেকেই তাহলে শুরু। মরি-বাঁচি, চায়ে অন্তত চিনি খাবো না।

মধ্যপথে ঠেকলো গাড়ি...

কুয়ালামপুরে বসে লিখছি। আমার এখনও বিশ্বাসই হচ্ছে না যে আমি সত্যি সত্যি দেশে যাচ্ছি! এরকম হয়, যে ব্যাপারগুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি উতসাহ, আগ্রহ, প্রত্যাশা, অপেক্ষা বা এমন যেকোন ভালো লাগা বা কষ্টের অতি মানবীয় আবেগ জড়িয়ে থাকে, সেই ব্যাপারগুলো চোখের সামনে চলে এলে আমি ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারি না। এয়ারপোর্টে তারুকে ফেলে যখন ইমিগ্রেশান পার হচ্ছিলাম, তখন আবার এটাও বিশ্বাস হচ্ছিলো না যে আমি সত্যি একা যাচ্ছি। তারুর সাথে যেকোন কিছু শেয়ার করে নিতে ভালো লাগে। নিশ্চিন্ত লাগে। আজ প্লেনে মোবাইল ফোনটা সুইচ অফ করবার পরেও কতবার যে কত কারনে ওকে কল করতে ইচ্ছা করেছে...। জানা কিছু ব্যাপার, তবু কথা বলে মিলিয়ে নিতে ভালো লাগে। মানুষ আজব ভীষণ। একই সাথে ভালো লাগা আর কষ্টের মিশেল দিয়ে কি যেন আজব এক আজব অনুভূতি হয়। এতদিন পরে দেশে যাচ্ছি সেই আনন্দ, আবার সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে ছেড়ে দশটা দিন আলাদা থাকাটাও অনেক কষ্টের। এই মানুষটার কাছে থাকবার জন্যই তো দেশ আর বাবা, আপু, বন্ধুদের ছেড়ে আসা! কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে এই প্রথম এলাম। অনেক গরম বাইরে। নেমেই একটা মজার ব্যাপার হলো, দু'টো বাংলাদেশি ছেলে, এখানেই থাকে বোধ করি, আমাকে ন...

আমি গাই ঘরে ফেরার গান...

ঈদে আমার রান্নাবান্নার ফিরিস্তি শুনে বাবা খুব চিন্তায় পড়েছে, ভাবছে আমার ছোট্ট মেয়েটা কি বেশি গিন্নী গিন্নী হয়ে গেলো? এবার যখন দেশে আসবে তখন সেই আদরের মেয়েটাকে পাবো না? আমার খুব আনন্দ লাগে, আমার চোখে পানি চলে আসে...। এই সেই মানুষ, যে বয়সের হিসাব দিয়ে আমাকে পরিপক্ক হয়ে যেতে দেখতে চায় না। আমার কাছে জাগতিক লাভ-লোকসানের কোন চাহিদা নেই তো তার, আছে কেবল অসীম মমতা। ভালোবাসা-মমতায় সেইসব হিসাব কি চলে? কিন্তু বাবা, এখানে, তোমার থেকে এত দূরে, অচেনা সব আবছায়া মানুষদের ভীড়ে বড় তো আমাকে হতেই হয়, অন্তত অভিনয়, নইলে যে কেবল অভিযোগ! অনেক হলো বাবা, আবার ক'টা দিন, অন্তত সামান্য ক'টা দিন তোমার কাছে এসে আবার আগের আমি হতে চাই, যেখানে সমস্ত আবদার কেবল আমিই করব, ইচ্ছেমত যত খুশি যন্ত্রণা করব তোমাকে...। সেইসব যন্ত্রণা ঈশ্বরের উপহার ভেবে বুকে জড়াবে তুমি, জানি আমি। তাই তো বলছো আজীবন, তেমন করেই আগলে রেখেছিলে...অনেক অপেক্ষার পরও মা'র বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি নি আমি, কখনও পারবোও না। তোমার গলা জড়িয়ে আবার একটু কাঁদতে চাই বাবা, একটু হাসতে চাই... আসছি বাবা, আর মাত্র ক'টা দিন।

নেটবুক নিয়ে মহা খুশি

ইদানিং ছুটির দিনগুলো বেশ মজা করে কাটছে...ছুটির মত করেই। সকালে ইচ্ছামত অনেক ঘুমানো হচ্ছে, আবার তারপরে অনেক ঘুরাঘুরিও হচ্ছে, প্রায় চর্কিবাজি। সামনে দেশে যাবো ইনশাল্লাহ, সেই সূত্র ধরে টুকটাক শপিং-ও চলছে। আজকেও খানিকটা তাই। হালকা পাতলা কেনাকাটা করলেও করতে পারি এরকম ভাব নিয়ে বেরিয়েছিলাম। কেমনে কেমনে যেন ফাটাফাটি সেল পেয়ে একটা দারুন জিনিস কিনে ফেললাম, একদম আনপ্ল্যান্ড! একটা পুচকি সাইজের নেটবুক। ল্যাপটপ বা নোটবুকের খালাতো ভাই বলা যায়। ১০ ইঞ্চি স্ক্রীন, পুরা ব্যাপারটাই কিউট লাগে আমার। খুব খুশি লাগছে। পুচকিটাকে পেটের ওপর ফেলে রাত-দুপুরে টাইপিং করতেও খুব মজা লাগছে। আজকে, আবার অনেক দিন পরে ব্লগস্পটে ঢুঁ মারলাম ওরই অনারে। থ্যাঙ্ক ইউ মাই নিউ মেট। :-)