Posts

(রূপ)টুপ(কথা)টথা

হেমিংওয়ের বুড়ো সান্টিয়াগো আর সুকুমার রায় বেশ গলাগলি-দোস্তি মুডে আছে আজকে। একটু বসে আড্ডা দেবে ভাবছে কিন্তু তেমন আরামদায়ক, নিরিবিলি জায়গা পাবে কই? একটু খুঁজে টুজে কি ভেবে তারা বসবার জন্য বেছে নিলো আমার মাথাকেই। চুল নামক বিচ্ছিরি কালো কালো আঁশগুলো সরিয়ে একটু বসতে যাবে ওমনি তাদের গাঁয়ে জেকে বসলো একগাদা খুশকি। এহ! দিলো তো গাঁয়ে এলার্জি বাঁধিয়ে...আ ছি ছি ছি বলে তাদের সেকি লাফালাফি। আমার কি আর এসব সহ্য হয়? দু'হাত দিয়ে নিজের মাথায় নিজেই দিলাম বাড়ি। আর ওমনি এই দুই ভদ্রলোক অভদ্রের মত ঢুকে পড়লো একেবারে খুলির ভেতর মগজে! এই সেরেছে! একেবারে মগজে ঢুকে গেলো! তা এসেছেন যখন, নমস্কার নমস্কার, সালাম। আপনারা আমার অতি প্রিয় লোক, ছোটবেলায় কত না হযবরল ভাবনায় আপনারা সংগী হয়েছেন। কত না-মেটানো ইচ্ছা সান্টিয়াগোর মত কল্পনায় ভেবে সাধ মিটিয়েছি। একবার ভেবেছিলাম বড় হলে সান্টিয়াগোর সাগরেদ হয়ে এত্তবড় মাছ ধরব সাগরে। তা এতদিন পরে যখন... "ওরে থাম থাম, অনেক বকেছিস। এবার আমাদের একটু নিজেদের মাঝে গল্প করতে দে। তার আগে বল দিকিনি, ওই যে দেখছিস হাঁস...একটু পরেই ওটা কি হবে?" সুকুমার রায়ের কথায় আমি গর্বিত হেসে বলি...

আমার দেখা বাংলা সিনেমা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

Image
হলে গিয়ে সিনেমা দেখা বন্ধ হবার পরে টিভিই রইলো একমাত্র সম্বল। একটু বুদ্ধি হবার পর থেকেই যে সিনেমাটি টিভিতে সবচেয়ে বেশি দেখেছি তা"জীবন থেকে নেয়া"। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারী-- যেকোন দেশাত্ববোধক উপলক্ষে এই একটি সিনেমাই দেখানো হতো। সম্ভবত রাজনৈতিক জটিলতায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যান্য যেকোন সিনেমা দেখানোটা ওই সময়ের সরকারের পক্ষে সম্ভব ছিলো না (হায়!)। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সিনেমাটি যতবারই দেখেছি, নতুন করে ভালো লেগেছে। ছোটবেলায় এই সিনেমার রূপক অর্থটি বুঝিনি, তবুও ভীষন উপভোগ্য মনে হতো। খান আতার সেই চিরদিনের অসম্পূর্ণ গান, " এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে?" কখনোই ভোলার নয়। এবং সেই বিখ্যাত ডায়ালগ, "ঘরে ঘরে দূর্গ গড়তে হবে"...অসাধারণ। একটু বড় হয়ে, একটু বুঝার পর থেকেই কেবল ভাবি, কি পরিমাণ মেধা থাকলে একজন পরিচালক এরকম একটি সিনেমা তৈরি করতে পারেন। কি অসাধারণ প্লট, কি পারফেক্ট রূপক- একটি পরিবারের মধ্য দিয়ে পুরো একটি দেশের সম্পূর্ণ পরিস্থিতিটি তুলে ধরা, সর্বোপরি প্রতিটি পাত্র-পাত্রীর চমৎকার অভিনয়। দেখতে দেখতে মুখস্ত হয়ে যাওয়া এই সিনেমাটি তাই তুমুল উৎসাহ নিয়ে...

আমার দেখা বাংলা সিনেমা

Image
ছোটবেলায় ব্যাপারটা ছিলো ঠিক উল্টো। মানে এখন যেমন নাক প্রায় সিঁটকিয়েই বাংলা সিনেমার বড়জোর খবর নেই, ছোটবেলায় বরং প্রবল আকর্ষন ছিলো সিনেমা ব্যাপারটার প্রতি। আর সিনেমা মানেই বাংলা সিনেমা। বিটিভিতে ইংরেজী সিনেমা দেখাতো বটে কিন্তু সেটাকে সিনেমা না ভেবে "মুভি অব দ্য উইক" ভাবাটাই বেশি যৌক্তিক মনে হত সেই সময়! অনেক দিন পর্যন্ত আমাদের বাসায় সাদাকালো টিভি ছিলো। তখন টিভিতে দেখানোও হতো বেশিরভাগ সাদাকালো ছবিই। নায়ক-নায়িকা হয় রাজ্জাক-কবরী-ববিতা নয়ত শাবানা-আলমগীর, কখনও শবনম-রহমান। এর বেশি নিজের মনে নেই, তবে আমার মায়ের খুব পছন্দের ছিলো নায়িকা ছিলো সুজাতা। এক্কেবারে পিচ্চীবেলার সিনেমাগুলো বিটিভিতে দেখাতো বৃহস্পতিবার রাত আটটার সংবাদের পরে। আমরা সবাই সার বেঁধে ড্রইং রুমে বসে যেতাম। দেড় ঘন্টা দেখার পরেই ইংরেজী সংবাদ, মানে আধ ঘন্টার বিরতি। সেই সময়েই ঘটতো করুণ ঘটনা। আমার বাবা আমাকে নানান ভাবে ঘুম পাড়িয়ে দেবার চেষ্টা করত। একেক দিন একেক অজুহাত, "মা, আজকে তো আর দেখাবে না, পরের অংশের ফিতা নষ্ট হয়ে গেছে", অথবা "আরে এইটা শুক্রবারে সকালে আবার দেখাবে তখন দেখো" ইত্যাদি নানা অজুহাত। সেই সব...

বইমেলা...তোমার কাছে যাবো

Image
আমার একটা স্বভাব আছে, কখনও কখনও একটানা একই গান শুনতে থাকি...ঘন্টার পর ঘন্টা। আজ এরকম চলছে, "আমি বৃষ্টি দেখেছি", অঞ্জন দত্তর। শুনতে শুনতে মনটা গানের ভাবের মত হয়ে যায় নাকি আগে থেকেই মনটা তেমন হয়ে আছে বলেই আসলে গানটা শোনা হয়...ঠিক জানা নেই। তবে গান আর মন মিলে অদ্ভুত একটা পরিবেশ তৈরি হয়, তৈরি হয়ে চলতে থাকে। আজ দেশের কথা খুব বেশি মনে পড়ছে। বাবার কথা...। মা'র কথা মনে পড়ে, মা কবি ছিলো না কিন্তু খুব সহজ করে জীবনের দর্শন বলে ফেলতো মাঝে মাঝে। একটা কথা বলতো, "মানুষ কেমন পাখি দেখো, কাল আমি কোথায় ছিলাম আর আজকে কোথায়?" বলে ফিক করে হেসে ফেলতো। এই কথাটা মা তেমন গুরুতর অর্থে যে বলতো না নয়। হয়তো একদিন বেড়াতে গেলাম টাংগাইলে, পরের দিন ঢাকার বাসায় ফিরেছি, তখন। মা'র দৌড় তো ছিলো সেই ঢাকা-টাংগাইল। বইমেলা শুরু হয়ে গেলো। মা'র সেই কথাটা মনে হচ্ছে বারবার...মানুষ কেমন পাখি, মানুষ কেমন পাখি। আট বছর পর এই প্রথম আমি বইমেলায় যাচ্ছি না। পাখি হয়ে উড়ে উড়ে আমি চলে এসেছি এতটা দূরে যেখানে পৌঁছুতে গিয়ে ডানা গেছে কেটে! এখন আর উড়াল দেবার উপায় নেই। কার্জন বা রোকেয়া হল থেকে হেঁটে অথবা পল্লবী থেকে ...

নিরন্তর

Image
ছায়ারা কিংবা রূপকথা আসে না আর, আসে কেবল নিশিকাব্যর মত ভূতুড়ে অবয়ব। চাঁদের আলো কবেই বিলীন হয়েছে সোডিয়াম লাইটের কাছে ; এবার হলুদ আলোয় রহস্য খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টায় - অবশেষে হাসির কাছাকাছি বেঁকে ওঠে ঠোঁট! তবু শেষ হাসি হাসা হয় না আমার। এবং তোমার। অথবা আমাদের। কিংবা তোমাদের।

আজ পড়ব

অনেক দিন কিছু লেখা হয় না। তার চাইতেও খারাপ যে কিছু পড়াও হয় না। এমনকি নিয়মিত যে ব্লগের পাতায় ঘোরা প্রতিদিনের সকালের নাস্তার মত হয়ে গিয়েছিলো, ইদানিং পড়া হচ্ছে না তা-ও! অদ্ভুত। এবং খুব খারাপ। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের "রচনাসমগ্র ১" নামিয়ে রেখেছি সেলফ থেকে পরশুদিন। প্রথম পাতার প্রথম লাইন থেকে "মনোরম মনোটোনাস" মাথায় আটকে দিয়েছেন প্রিয় ব্লগার (অবশ্যই লেখক বলা উচিৎ ছিলো, কিন্তু পরিচয় তো ব্লগেই) মুহম্মদ জুবায়ের। এই শব্দদু'টোই ঘুরছে এখনও চর্কির মত। আজ এগুবো। আজ অবশ্যই আরো অনেকদূর পড়ব।

সুইট ডিসেম্বর

বিবাহের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যে এরকম প্রায় পরিকল্পনাহীনতায়, আকস্মিক ঘটনার মত দুম করে ঘটে যেতে পারে এবং সেটা নাটক-সিনেমায় নয়, বাস্তবে-- সেটা নিজের জীবনে না ঘটলে সেরকম করে বুঝতাম কি করে?! সময়ের নিম্নাঙ্গে পায়ের বদলে অতি দ্রুত গতিসম্পন্ন চাকা অথবা উর্দ্ধাঙ্গে পাখির নরম ডানা নয় হয়ত, হয়ত জেট প্লেনের ডানা লাগানো আছে। নইলে সেই আকস্মিক ২২শে ডিসেম্বর একবার এলো আমাদের জীবনে বুঝলাম, তাই বলে বছর ঘুরে আবার সেই দিনটাই উপস্থিত? আরিব্বাবা, একটা নয় দুইটা নয়, একেবারে ৩৬৫ বার পৃথিবী ঘুরান দিয়ে দিলো এর মাঝে ? বেশ একটু লজ্জা লজ্জা লাগছে নতুন করে। বিয়েবার্ষিকী উপলক্ষ্যে লজ্জাবার্ষিকী। :-) পৃথিবীর ব্যাপার স্যাপার ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না এখনও। মাঝে মাঝে এত তীব্র হতাশা জেঁকে বসে...আবার সেই আমাতেই জ্বলজ্বল করে কোন এক আশ্চর্য আলো! ভালোবাসা...বন্ধুতা...কি মমতামাখা সব শব্দ। কি মায়াময় অনুভূতি! এইজন্যেই বুঝি মানুষ বেঁচে থাকে। আরো বেঁচে থাকতে চায়। হ্যাপি এনিভার্সারি তারু। রবিবুড়ার কাছ থেকে ধার করে একটু বলি-- "তোমায় নতুন করে পা'ব বলে হারাই ক্ষণে ক্ষণ। ও মোর ভালোবাসার ধন"।